অ্যাফিলিয়েট মারকেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী? কিভাবে শিখবেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েব ইন্ডাস্ট্রিতে এক তুমুল আলোচিত পেশা। মূলত অন্য কোনো কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করার মাধ্যমে যখন একজন মার্কেটার একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন উপার্জন করেন তাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

আসুন, জেনে নেই- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী?

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কমিশন বেসড্ একটি বিজনেস ফর্মূলা যেখানে অন্য কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাবেন প্রত্যেকবার। মনে করুন, আপনি AliExpress এর  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন। তাহলে আপনি যখন AliExpress এর প্রোডাক্ট সারা দুনিয়াব্যাপী প্রোমোট করবেন তখন কেউ যদি সেই প্রোডাক্টটি AliExpress থেকে ক্রয় করে, তাহলে প্রত্যেকটি বিক্রির উপর AliExpress আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন দিবে । এটিই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনার আগ্রহ এবং সময়োপযোগী পণ্যের অফার প্রোমোট করতে পারলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়েই হতে পারে স্বপ্নের ক্যারিয়ার। যদিও আজকের পৃথিবীতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। কেননা, এই পেশায় যেমন আয় অনেক এবং প্যাসিভ ইনকাম গড়া সম্ভব, ঠিক তেমনি প্রতিষ্ঠিত হওয়াও সময়, শ্রম এবং বিনিয়োগ নির্ভর। তাই অনেক উদীয়মান তরুনরা এই পেশায় আসলেও সবার পক্ষে কম্পেটিশনে টিকে থাকা সম্ভব হয় না।

Affiliate-Marketing-Model

 

নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণঃ

 

১. সময়ঃ

পর্যাপ্ত সময় না দিলে  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফল হওয়া সম্ভবপর হয়না। কেননা, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি মাল্টি বিলিয়ন ইন্ডাস্ট্রি। একদিকে প্রতিযোগীতা অন্যদিকে প্রযুক্তির আপডেট-উভয় মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া অতীব প্রয়োজন।

২. কৌশলঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে অনেক বেশি কৌশলী (strategist) হতে হবে। আপনি যত বেশি কৌশলী হবেন, আপনার অফার প্রোমোট করার জন্য নিত্যনতুন কৌশল বের করতে পারবেন প্রতিনিয়ত। তাহলে একদিকে আপনার বিসনেস আপ টু ডেট থাকবে, অন্যদিকে আপনার নির্দিষ্ট অডিয়েন্স থেকে পর্যাপ্ত পরিমান রিসপন্স পাবেন।

৩. বিনিয়োগঃ

অনেক সময় নির্দিষ্ট পরিমান ‍বিনিয়োগের অভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফলতা আসতে দেরি হয়। আপনি শুধু ফ্রি মেথডে কাজ করে আউটপুট আনতে অনেক বেশি সময় ও শ্রম দিতে হবে। কিন্তু পেইড মেথডে কাজ করলে (ফেইসবুক, PPC ইত্যাদি) আউটপুটটা দ্রুত আসা পসিবল।

 

 অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোন কোন বিষয়ে ধারনা থাকতে হয়?

 

  • কীওয়ার্ড রিসার্চ এবং নিশ্ নির্বাচন
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)
  • ওয়েব সাইট তৈরির যাবতীয় কাজ (Easily Setup Your WordPress Blog)
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (বিশেষ করে, ফেইসবুক মার্কেটিং)
  • গুগল এ্যাডওয়ার্ডস্
  • ই-মেইল কালেকশন (লিস্ট বিল্ডিং) এবং ইমেইল মার্কেটিং
  • লিংক বিল্ডিং প্রসেস
  • ট্র্যাফিক জেনারেশন এর নানাবিধ উপায়
  • কন্টেন্ট অপটিমাজেশন
  • ইত্যাদি

 

 সিক্রেট ব্লগিং টুলস্

 

 অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধাঃ

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি স্মার্ট এবং আধুনিক পেশা। এই পেশার কিছু স্বাতন্ত্রতা রয়েছে যা এটিকে অনলাইনের অন্যান্য কাজ থেকে পৃথক করেছেঃ

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোনো বিড করার প্রয়োজন পড়ে না।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ থাকে।
  • একটি ওয়েবসাইট দিয়ে প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করা সম্ভব হয়।
  • একটি অ্যাফিলিয়েট সাইট দিয়ে একাধিক ওয়েতে ইনকাম করা সম্ভব হয়।
  • আনলিমিটেড ইনকাম করা সম্ভব।
  • ঘুমিয়ে থাকলেও ইনকাম করা সম্ভব।

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর অসুবিধাঃ

 

অনেক সুবিধার পাশাপাশি এই পেশার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন,

  • ফ্রিল্যান্সিংয়ে শুরুর দিকেই সবাই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় না।
  • জীবনে গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ড-এর জন্য অনেক রিস্ক নিলেও এই ইন্ডাস্ট্রির রিস্কটা অনেকে নিতে চায় না।
  • ইনকামের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা বিরক্তিকর মনে হয়।

মানুষের  চাহিদা সম্পর্কে জানার সীমাহীন আগ্রহ কিংবা সেই চাহিদার বস্তুটাকে তার চোখের সামনে মেলে ধরতে পারার যোগ্যতা থাকলে আপনার পক্ষেই সম্ভব একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়া। ধৈর্য্যের সাথে একনিষ্ঠতা থাকলে অসাধ্যকে সাধন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র…!!!

0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close